০৫ এপ্রিল ২০২৬

মায়ের হাতে অর্জুন পুরস্কার তুলে দিলেন শামি

কিশোর ডাইজেস্ট ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৪, ১৫:৫২
মায়ের হাতে অর্জুন পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন মোহাম্মদ শামি। ছবি : ফেসবুক থেকে

২০২৩ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার জন্য ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্জুন পুরস্কার জিতেছেন পেসার মোহাম্মদ শামি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সই তাঁকে এই পুরস্কার পেতে সহায়তা করেছে। যদিও তাঁর এই অসাধারণ পারফরম্যান্স ভারতীয় দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেনি।

মোহাম্মদ শামি তবু বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নায়ক। দল বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁকে মনোবল বাড়াতে সাহায্য করেন।

শামি তখনও হয়তো ভাবেননি, তাঁর জন্য এত বড় একটা উপহার অপেক্ষা করছে! তিনি যে অর্জুন পুরস্কার পেতে চলেছেন, তাঁর আভাস হয়তো ছিল না তাঁর কাছে। অপ্রত্যাশিত পুরস্কার পান শামি। অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে সম্মানসূচক এই পুরস্কার নেন শামি। ১৯৬১ সালে অর্জুন পুরস্কার চালু হয়। যাঁরা অর্জুন পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন, তাঁদের একটি ব্রোঞ্জ পদক, একটি মানপত্র ও ১৫ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। শামিসহ ২৬ জন ক্রীড়াবিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফর্ম করেন ডানহাতি এই পেসার। দেশের মাটিতে ভারত বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও সাত ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বনে যান শামি। পাশাপাশি সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাত উইকেট নিয়ে গড়েন বিশ্বরেকর্ড। যদিও শুরুর চার ম্যাচে তিনি একাদশেই সুযোগ পাননি।

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে অর্জুন পুরস্কার নিচ্ছেন মোহাম্মদ শামি। ছবি : পিটিআই

মোহাম্মদ শামি পুরস্কার সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘এই পুরস্কারটি আমার কাছে একটি স্বপ্ন। এটার জন্য সবার জীবন কেটে যায় এবং মানুষ এই পুরস্কার জিততে পারে না। আমি খুশি যে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছি। আমার জন্য এই পুরস্কার পাওয়াটা একটি বড় সম্মান।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা স্বপ্ন, কারণ আমি আমার সারা জীবনে অনেক মানুষকে এই পুরস্কার পেতে দেখেছি।’

পিটিআইকে মোহাম্মদ শামি বলেছেন, ‘এই মুহূর্তটি ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমি শুধু বলতে পারি স্বপ্ন সত্যি হলো। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল।’

যা হোক, ছেলের পুরস্কার নেওয়ার মুহূর্ত উপভোগ করেন মোহাম্মদ শামির মা। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। পুরস্কার গ্রহণের পরই শামি জানিয়েছিলেন, এটা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। আর এবার পুরস্কার পাওয়ার পর গোটা পরিবারের সঙ্গে ছবি পোস্ট করলেন ভারতের বোলিং সেনসেশন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু স্থিরচিত্র জুড়ে দিয়ে শামি লিখলেন, ‘এই পুরস্কার, সম্মান আমাকে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমাকে বড় করে তুলতে আমার মা-বাবার অবদানের শেষ নেই। আমার চোখে তাঁরাই এই দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ অভিভাবক। ওদের আত্মত্যাগ, ভালোবাসা আমি ভুলতে পারব না কোনোদিন। আমার ওপর যাঁরা আস্থা রেখেছিলেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

বাবাকে হারিয়েছেন মোহাম্মদ শামি। তাঁর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে বাবার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই আরও বেশি করে মাকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন শামি। মা-ই এখন তাঁর কাছে সেরা সম্পদ।