০৪ এপ্রিল ২০২৬

ব্যাঙ নয়, যেন স্বচ্ছ কাচের টুকরো!

শাকিব হুসাইন
২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৮:৩২
রেটিকুলেটেড গ্লাস ব্যাঙ। ছবি : জাঙ্গল জুয়েল এক্সোটিকস

তোমরা তো জানোই, কাচ কত স্বচ্ছ। কাচের এপাশ থেকে ওপাশের সবকিছু পরিষ্কার দেখা যায়। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছ, একপ্রকার ব্যাঙ আছে, যা দেখতে কাচের মতো। অবাক হচ্ছ বুঝি? হবারই তো কথা। তোমাদের মতো আমিও প্রথম অবাক হয়েছিলাম।

হ্যাঁ বন্ধুরা, এমন এক প্রজাতির ব্যাঙ আছে যারা দেখতে স্বচ্ছ কাচের মতো। যেন এক টুকরো স্বচ্ছ কাচ। এই প্রজাতির ব্যাঙদের নাম হলো রেটিকুলেটেড গ্লাস ব্যাঙ। এরা আবার এক গাছের পাতা থেকে অন্য গাছের পাতায়ও লাফাতে পারে। যখন কোনও একটি ব্যাঙ এক-চতুর্থাংশ দৈর্ঘ্যের একটি গাছের পাতা থেকে অন্য পাতায় লাফিয়ে উঠতে থাকে, তখন তার ছোট্ট পেটটি উড়তে থাকে। ঠিক তখনই এর নিচের দিকের চামড়া দিয়ে অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো দেখা যায়।

রেটিকুলেটেড গ্লাস ব্যাঙ। ছবি : ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিডস

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কিডসের তথ্যমতে, এই রেটিকুলেটেড গ্লাস ব্যাঙের সাধারণ নাম জালিকাযুক্ত গ্লাস ব্যাঙ। এরা উভচর। এরা আবার মাংসাশীও। এদের সাইজ এক ইঞ্চি পর্যন্ত।

এই ব্যাঙের প্রজাতিটি প্রথম ১৮৭২ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং প্রাণিবিজ্ঞানীরা এর সম্পর্কে বর্ণনা দেন। এদের প্রথম শনাক্ত করা হয় ইকুয়েডরে। পরে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু জায়গায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদের আদি জন্মভূমি হলো দক্ষিণ আমেরিকা। 
এরা স্রোতের আশপাশের গাছের পাতায় বাস করে। স্ত্রী প্রজাতির ব্যাঙেরা পাতার নিচের দিকে প্রচুর ডিম পাড়ে (যাকে ক্লাচ বলে)। জেলির মতো পদার্থ দিয়ে ডিমগুলোকে আটকে রাখে। পরে স্ত্রী ব্যাঙেরা চলে গেলে পুরুষ ব্যাঙেরা তা পাহারা দেয়।

রেটিকুলেটেড গ্লাস ব্যাঙ। ছবি : হাইবু

এই প্রজাতির ব্যাঙেরা আবার নিনজা টেকনিকও জানে। কি, অবাক হলে তো? নিনজা টেকনিক দিয়ে তারা আবার কী করে? এই নিনজা টেকনিক দিয়ে তারা সন্তানদের রক্ষা করে।

এখন নিশ্চয়ই তোমাদের এই রেটিকুলেটেড গ্লাস ব্যাঙ দেখতে ইচ্ছে করছে? করবেই তো। এমন বিস্ময়কর প্রজাতির ব্যাঙ কার না দেখতে ইচ্ছে করে। তাহলে আজই মা-বাবাকে বলে অথবা নিজেও ইন্টারনেট থেকে দেখে নিতে পারো এই প্রজাতির ব্যাঙের ছবি ও ভিডিও।