আট দিনের একটি মিশনে মহাকাশে গিয়েছিলেন তাঁরা। তবে নানা জটিলতায় সময় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় নয় মাসে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার দুই মহাকাশচারী—বুচ উইলমোর ও সুনিতা উইলিয়ামস। সম্প্রতি ফ্লোরিডার উপকূলে স্পেসএক্সের ক্যাপসুলে করে তাঁদের অবতরণ হয়।
মজার বিষয় হলো, তাঁরা প্রথমে মাত্র ৮ দিনের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) গিয়েছিলেন। কিন্তু মহাকাশযানের ত্রুটির কারণে তাঁদের অনেক বেশি দিন সেখানে থাকতে হয়। তাহলে এতদিন তাঁরা কী খেয়ে বেঁচে ছিলেন?
মহাকাশে শুরুতে কিছু তাজা ফল ও সবজি থাকলেও কয়েক মাস পর সেগুলো শেষ হয়ে যায়। এরপর তাঁরা প্যাকেটজাত ও শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করেন। তাঁদের খাবারের তালিকায় ছিল পিৎজা, মুরগির কাবাব, টুনা মাছ, কর্নফ্লেক্স, দুধের গুঁড়া এমনকি ঝিনুকের ককটেলও!
মহাকাশে খাবার তৈরি করার পদ্ধতিও একটু ভিন্ন। অনেক খাবার আগে থেকেই রান্না করে পাঠানো হয়, পরে সেগুলো গরম করে খেতে হয়। আবার কিছু খাবারে পানি মিশিয়ে খাওয়ার উপযোগী করা হয়। এই পানি আসে মহাকাশ স্টেশনের ট্যাংক থেকে—এমনকি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পুনর্ব্যবহার করা পানি থেকেও!
তবে শুধু খাবারই নয়, মহাকাশে থাকা সহজ কাজ নয়। দীর্ঘ সময় সেখানে থাকলে শরীরে নানা পরিবর্তন হয়—মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়, ভারসাম্য নষ্ট হয়, এমনকি চোখেও সমস্যা হতে পারে।
তবুও বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনার কারণে খাবারের কোনো বড় সংকট হয়নি। প্রত্যেক মহাকাশচারীর জন্য পর্যাপ্ত খাবার মজুত থাকে, যাতে তারা সুস্থ থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, মহাকাশে জীবন অনেক কঠিন হলেও সঠিক প্রস্তুতি আর বিজ্ঞান প্রযুক্তির সাহায্যে সুনিতা ও বুচ সফলভাবেই তাঁদের দীর্ঘ যাত্রা শেষ করেছেন।