০৫ এপ্রিল ২০২৬

ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়

কিশোর ডাইজেস্ট ডেস্ক
১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ১৬:৪১
ত্বকের সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয় ব্রণ সমস্যা। ছবি : ফ্রিপিক

নানা কারণে মুখে ব্রণ হতে পারে। হরমোনের সমস্যা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত ঘুম, মসলাদার খাবার খাওয়া, দুশ্চিন্তা, এমনকি প্রসাধনী থেকেও ব্রণ হতে পারে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা ব্রণের সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। যদিও সব বয়সেই ব্রণ হতে পারে।

ত্বকের সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয় ব্রণ সমস্যা। ব্রণ দূর করার উপায় ও রূপচর্চা জানা থাকলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়। ব্রণের সমস্যা সৃষ্টি হয় আমাদের ত্বকের তৈলগ্রন্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে। তখন এটি আকারে বড় হয় ও ভেতরে পুঁজ জমতে থাকে। যা ধীরে ধীরে ব্রণ হিসেবে প্রকাশ পায়।

ব্রণ দূর করার জন্য সঠিক উপায়ে রূপচর্চা করা জরুরি। নয়তো তা আপনার ত্বককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ব্রণ দূর করার জন্য প্রথমে মুখের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন নিয়ম করে মুখ পরিষ্কার করাও। যত কিছুই ব্যবহার করুন না কেন, মুখ যদি পরিষ্কার না থাকে তাহলে কোনও লাভ মিলবে না। তাই সবার আগে মুখের তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ত্বক পরিষ্কার না রাখলে মুখে ব্রণের প্রবণতা বাড়ে। তাই নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠে বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখে ফেস ওয়াশ দিতে হবে।  

ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর করতে মুখ উষ্ণ পানি দিয়ে ধুতে হবে। এ ছাড়া মুখে স্টিম দিতে পারেন। স্টিম দিলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও ত্বকের সমস্যা দূর হয়।

চন্দনের রয়েছে অনেক গুণ। ত্বক ভালো রাখতে এটি বিশেষভাবে কার্যকর। ব্রণের সমস্যা দূর করতে চাইলে চন্দন ব্যবহার করতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্রণ দূর করতে সাহায্য করবে। চন্দনের সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণে লাগান। এতে উপকার পাবেন।

গোলাপ জল ও অ্যালোভেরা মাখতে পারেন। গোলাপ জল ও অ্যালোভেরায় থাকা উপাদান ব্রণের সমস্যা মেটাতে সাহায্য করে। এই উপাদান রোজ ব্যবহার করলে ত্বকের সমস্যা কিছুটা হলেও মেটানো সম্ভব হয়।

ব্রণ দূর করতে খাওয়ার দিকেও নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত তেল, ঝাল, মসলা জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না। বাইরের ফাস্টফুড খেলে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

ব্রণ কমাতে হলে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে। ছবি : ফ্রিপিক

ত্বকের যত্নে হলুদের উপকারিতার কথা সবারই জানা। ব্রণ দূর করার ক্ষেত্রেও হলুদ অত্যন্ত কার্যকর। হলুদের সঙ্গে সামান্য চন্দন এবং পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

নিমপাতা নানা ধরনের সংক্রমণ রোধে কাজ করে। এই পাতার তৈরি পেস্ট ব্রণের উপর লাগালেও মিলবে উপকার। আবার চাইলে এর সঙ্গে অ্যালোভেরাও যোগ করতে পারেন। নিমপাতার সঙ্গে অ্যালোভেরা যোগ করে নিন ভালোভাবে। এরপর সেই মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে নিন।  

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে বাঁচতে হবে। পেট পরিষ্কার না থাকলে ব্রণের প্রবণতা বাড়ে। ত্বক পরিষ্কার রাখতে পেটের দিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে এবং প্রচুর পানি খেতে হবে। তাতে ব্রণের সমস্যা কমবে।

ভাজাপোড়া খাবার কম খেতে হবে। রাত জাগা, চা-কফি বেশি খাওয়া উচিত নয়। রোদে বেরোলে ত্বকের ধরন বুঝে সানব্লক ব্যবহার করতে হবে। চুলে সাবধানে তেল দিতে হবে যাতে মুখে না লাগে। যদি ফাঙ্গাল ব্রণ হয়, তবে যেসব খাবারে ইস্ট আছে; যেমন বার্গার, পিৎজা, পেটিস—এগুলো খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

আর একটা কথা, উঠতি বয়সে ব্রণ হতেই পারে। তাই চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে কোনও ভাবেই ব্রণে হাত দেওয়া যাবে না। খোঁটাখুঁটির কারণে ব্রণ থেকে ত্বকে সংক্রমণ বাড়ে। অধিকাংশ সময় ব্রণ এমনিতেই সেরে যায়।