১৩ বছর বয়সে যখন সবাই পড়াশোনা-পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখনই ভারতের কিশোর তিলক মেহতা খুলেছিল নিজের প্রতিষ্ঠান। যার এখন বছরে আয় ১০০ কোটি রুপি। তিলক প্রমাণ করে দিয়েছে, বয়স শুধুই একটা সংখ্যা।
মামার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তিলকের মাথায় প্রথম এক নতুন উদ্যোগের ভাবনা এসেছিল। সামনে পরীক্ষা ছিল। তাই বইপত্র নিয়েই মামাবাড়ি গিয়েছিল তিলক। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার সময় বইপত্র সেখানেই ফেলে এসেছিল। পরীক্ষার পড়ার জন্য বইগুলো তার প্রয়োজন ছিল। সে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন পার্সেল ডেলিভারি সংস্থার সঙ্গে কথা বলে তাদের অনুরোধ করেছিল যাতে তার পার্সেলটা সেই দিনই ডেলিভারি করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ জায়গাতেই একই দিনে ডেলিভারি করার পরিষেবা ছিল না। আর যাদের সেই পরিষেবা ছিল, তা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ থেকেই তার মাথায় ব্যবসার ভাবনা এসেছিল।
ভারতের টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদন বলছে, তিলক ভেবেছিল, তার মতো অবস্থা অনেকেরই হতে পারে। অনেকেরই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পার্সেল ডেলিভারির প্রয়োজন হতে পারে। এ থেকেই সে একটি সংস্থা তৈরির কথা ভাবে। যে সংস্থা একই দিনে কোনও শহরের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পার্সেল ডেলিভারি করবে। তারপর তিলক সংস্থার নাম দেয়, ‘পেপার এন পার্সেল’। তিলক নজর দিয়েছিল, যাতে পরিষেবাটি ব্যয়বহুল না হয়। কারণ, তাহলে সেই পরিষেবা বেশি লোক ব্যবহার করতে পারবে না।

তিলক মেহতার অনুপ্রেরণা ছিল মুম্বাইয়ের ডাব্বাওয়ালারা। অল্প পয়সায় দ্রুত খাবার ডেলিভারি করার জন্যই পরিচিত ডাব্বাওয়ালারা।
তিলকের ব্যবসায় প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা করেছিলেন তার বাবা। এরপর সে ডাব্বাওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলে সাশ্রয়ী মূল্যে শহরের মধ্যে পার্সেল সরবরাহ করার বিষয়ে। তারপর তিলক তার ব্যবসাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। ২০১৮ সালের মধ্যে অদম্য উৎসাহ নিয়ে তার সংস্থাকে নতুন উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল তিলক। তার সংস্থার এখন বছরে আয় ১০০ কোটি রুপির বেশি! সংস্থার সরাসরি কর্মীর সংখ্যা দুইশোর বেশি। প্রতিদিন গড়ে ১২০০ পার্সেল ডেলিভারি করে তার সংস্থা।
২০২১ সালের হিসাব বলছে, তিলকের মোট সম্পদ ৬৫ কোটি রুপির উপরে। মাসে সে আয় করে ২ কোটি রুপি!