ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার নেইমারের সঙ্গে কিশোর ফুটবলার কাওয়ান বাসিলের চেহারার খুব বেশি মিল নেই। তবে খেলার ধরনে দুজনের মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। কাওয়ানের দুর্দান্ত গতি, চোখধাঁধানো ড্রিবলিং, বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট আর প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দক্ষতা দেখে অনেকেরই মনে পড়বে নেইমারের কথা। অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের বিশ্বাস, একদিন তিনিই হতে পারেন নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়রের প্রকৃত উত্তরসূরি। কে এই কাওয়ান বাসিল? কেন তাঁকে ঘিরে এত আলোচনা?
২০১২ সালের ২১ জুন জন্ম নেওয়া কাওয়ান বাসিল ফেরেইরা বর্তমানে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসের বয়সভিত্তিক দলে খেলছেন। এ ক্লাব থেকেই বিশ্ব ফুটবল পেয়েছে কিংবদন্তি পেলে ও নেইমারের মতো মহাতারকা। নিবিড় অনুশীলনে সান্তোসে নিজের স্বপ্ন গড়ে তুলছেন ১৪ বছর বয়সী এই ‘বিস্ময়বালক’।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খুব অল্প বয়সেই আরেকটি কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন কাওয়ান। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাইকির সঙ্গে স্পন্সরশিপ চুক্তি করেন। এত কম বয়সে নাইকির সঙ্গে চুক্তি করার নজির এর আগে আর কোনো ফুটবলারের ছিল না। এমনকি পেলে, নেইমার কিংবা লিওনেল মেসিও এত অল্প বয়সে এমন সুযোগ পাননি।

কাওয়ান মূলত আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। তবে দলের প্রয়োজনে ফরোয়ার্ড হিসেবেও সমান দক্ষতার সঙ্গে খেলতে পারেন। গতি, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা ও গোল করার ক্ষমতার কারণে ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক ফুটবলে নিজেকে আলাদাভাবে পরিচিত করে তুলেছেন তিনি।
ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রিকার্ডো কাকাও কাওয়ানকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী। তাঁর মতে, ব্রাজিল কখনোই প্রতিভাশূন্য থাকে না। একজন তারকার বিদায়ের পর আরেকজন উঠে আসে। নেইমারের পর নতুন মহাতারকা হিসেবে কাওয়ান বাসিলের আবির্ভাব মোটেও অসম্ভব নয়।
সান্তোস একাডেমিতে কাওয়ান এখন ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি পরেই অনুশীলন করেন। একসময় ১০ নম্বর জার্সি গায়ে তুলেছিলেন পেলে ও নেইমার। প্রতিদিন সেই ঐতিহ্যের মধ্যেই তিনি শিখছেন ব্রাজিলিয়ান নান্দনিক ফুটবলের সূক্ষ্ম সব কৌশল।
ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, উন্নতির ধারা বজায় রাখতে পারলে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপেই ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে দেখা যেতে পারে কাওয়ানকে। তখন হয়তো বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা নতুন এক ব্রাজিলিয়ান তারকার জাদুতে মুগ্ধ হবেন।