জাতীয় দলে প্রথম অনুশীলনেই আলোচনায় উঠে এসেছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। বোলারদের মধ্যে ‘ইয়র্কার’ মারার এক মজার খেলায় সেরা হয়েছেন তিনি। এটা নিয়ে অবশ্য সতীর্থদের মধ্যে ছিল হাসি-ঠাট্টা। তবে তার বোলিংয়ের আসল শক্তি কার্যকর স্লোয়ার ডেলিভারি। শুধু মিডিয়ায় পেসার হিসেবেই নয়, ব্যাটিংয়েও তার আছে আলাদা কদর।
২৮ বছর বয়সী আব্দুল গাফফার সাকলাইনের উঠে আসার গল্পটা বেশ ভিন্ন ও অনুপ্রেরণাদায়ক। টেপ টেনিস ক্রিকেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বড় মঞ্চে। বিভাগ পর্যায়ে আলো ছড়িয়ে অবশেষে সুযোগ পান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল)।
এরপর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে জায়গা করে নেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলে এবং খেলেন রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপেও। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার এই অগ্রযাত্রা নজর কাড়ে নির্বাচকদের।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ৯ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন সাকলাইন।
তাকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, আমরা একজন বোলিং অলরাউন্ডার খুঁজছি। সে হয়তো আমাদের সেই অপশন হতে পারে। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই তাকে দলে নেওয়া।
অধিনায়ক লিটন কুমার দাস সাকলাইনকে শুধু পেস বোলার হিসেবে নয়, বরং একজন অলরাউন্ডার হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, বিপিএলে রাজশাহীর হয়ে ভালো পারফরম্যান্সই সাকলাইনকে নজরে এনেছে। এখন ধীরে ধীরে তাকে গড়ে তুলে ভবিষ্যতে দলে নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাটিংয়ে এখনো বড় ইনিংস না খেললেও সাকলাইন মাঝে মাঝে ঝলক দেখিয়েছেন। চাপের মুহূর্তে বড় শট খেলার সক্ষমতা তার আছে, এটা তাকে আলাদা করে চেনায়।
ছক্কার মারার সহজাত সামর্থ্য আছে সাকলাইনের। গত নভেম্বরে কাতারে রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপের ফাইনালে প্রবল চাপের মধ্যে শেষ দিকে এক ওভারে দুটি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। গত বিপিএলে চট্টগ্রামের বিপক্ষে করেছিলেন ৩ ছক্কায় ১৫ বলে ৩২।
বোলিং-ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েই সাকলাইন জাতীয় দলে এসেছেন। এখন ধাপে ধাপে হয়ে উঠতে পারেন অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।