২৪ এপ্রিল ২০২৬

মোস্তাফিজের কারিশমা, কিংবদন্তিদের পাশে নাম

কৌশিক অর্ণব
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০২
মোস্তাফিজুর রহমান বিসিবি

বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমান কী করতে পারেন, তা ক্রিকেট বিশ্বে অজানা নয়। নিউজিল্যান্ড সিরিজের শুরুটা তার জন্য ছিল হতাশার, চোটের কারণে প্রথম দুই ওয়ানডেতে মাঠে নামা হয়নি। তবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে একাদশে ফিরেই নিজের আসল রূপ দেখালেন বাঁহাতি পেসার। দুর্দান্ত বোলিংয়ে তুলে নিলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ পাঁচ উইকেট, ছুঁয়ে ফেললেন নতুন এক মাইলফলক।

মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচেই প্রভাব ফেলেনি, বাংলাদেশ শুধু সিরিজই জেতেনি, তিনি ভেঙেছেন নিজের দীর্ঘ অপেক্ষাও। সবশেষ ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। প্রায় সাত বছর পর ফের ফাইফারের স্বাদ পেলেন মোস্তাফিজ।

ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে ৫ ও ৬ উইকেট নিয়ে তার পথচলার শুরুটা ছিল সাড়া জাগানো ও রেকর্ডময়। ওই ২০১৫ সালেই আরেকবার ৫ উইকেট নেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে পারফরম্যান্সে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট হয়ে গেল তার ৬ বার! বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৫ উইকেট শিকারির তালিকায় স্পর্শ করলেন তিনি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম ও গ্রেট ট্রেন্ট বোল্টকে।

সর্বকালের সেরা বোলারদের একজন ওয়াসিম ৬ বার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ৩৫১ ইনিংস বোলিং করে। মোস্তাফিজ তার পাশে নাম লেখালেন ১১৮ ইনিংসেই। বোল্টের অবশ্য একটু কম লেগেছে ইনিংস (১১৪টি)।

তাদের ওপরে আছে কেবল একটি নাম। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক।

মোস্তাফিজের বয়স মোটে ৩০। দারুণ ফর্মেও আছেন। স্টার্ককে ছোঁয়ার আশা তাই করাই যায়!

ওয়ানডের ইতিহাসে সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ডটি ওয়াকার ইউনিসের। পাকিস্তানি এই কিংবদন্তি পেসার ২৫৮ ইনিংসে ১৩ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন।

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কান গ্রেট মুত্তিয়া মুরালিধরন নেন ১০ বার। ৯ বার করে ফাইফারের কীর্তি আছে স্টার্ক, ব্রেট লি এবং শহীদ আফ্রিদির। এ হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ফাইফারের তালিকায় মোস্তাফিজের অবস্থান অষ্টম এখন। এ তালিকার শীর্ষ যদি কখনো ছুঁতে পারেন, তবে তার জন্য হবে অসাধারণ কীর্তি। অবশ্য, মোস্তাফিজ ইতোমধ্যে যা করেছেন, তা রূপকথাকেও হার মানায় যেন।