পিরিয়ড বা মাসিক চলাকালে পেটে ব্যথা, মুড স্যুইং, খিদে না পাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। শারীরিক দুর্বলতাও দেখা দেয় এই সময়। পিরিয়ড শুরুর কয়েক দিন আগে থেকে ক্লান্তিভাব বেশি আসে। কিন্তু মাসিকের সময় কেন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে? এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ই বা কী?
পিরিয়ডের আগে এবং সেই সময় শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তির অন্যতম কারণ হলো হরমোনের ওঠানামা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ার কারণে দুর্বলতা অনুভব হয়। পিরিয়ডের শেষে যতক্ষণ না ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্লান্তিবোধ থেকেই যায়।
মাসিকের এই সময়টাতে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। যে কারণে ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। তাই এই সময় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেকেরই পিরিয়ডের সময় মিষ্টিজাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড, জাঙ্ক ফুডের প্রতি লোভ বেড়ে যায়। কিন্তু এতে শরীরের ক্ষতিই হয়। কম পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ফলে পিরিয়ডের সময় শারীরিক দুর্বলতা বাড়ে। আয়রন, প্রোটিন, ওমেগা থ্রি, ম্যাগনেশিয়াম এবং ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
পুষ্টিকর খাবার
পিরিয়ডের সময় শারীরিক ক্লান্তি, দুর্বলতা কাটাতে ডায়েটের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। টাটকা ফলমূল, শাকসবজি এই দিনগুলোয় অবশ্যই খেতে হবে। বিশেষ করে পালং শাকের মতো শাক বেশি করে খান। এই সময় শরীরের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আয়রন। আয়রন এবং বি ভিটামিন সমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি পিরিয়ডের ক্লান্তি দূর করতে খুবই উপকারী। এ ছাড়া বাদাম, গোটা শস্য, দই, কলার মতো খাবারও খেতে পারেন এই সময়।
পর্যাপ্ত পানি
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না পান করলে শরীরে ক্লান্তি দেখা দেয়। শরীরে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পানির প্রয়োজন। চা, কফি, কোল্ড ড্রিঙ্কস বা অন্যান্য চিনিযুক্ত পানীয়ের চেয়ে সাধারণ পানি পান আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে সবচেয়ে উপকারী।
নিয়মিত ব্যায়াম
ওয়ার্কআউট বা ব্যায়ামের মাধ্যমেও শরীরে দ্রুত অ্যানার্জি ফেরে, স্ট্রেস কমে, পাশাপাশি ঘুমও ভালো হয়। এই সময় কিছু হালকা ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। দিনের কিছুটা সময় হাঁটতেও যেতে পারেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করাও উপকারী হবে।
পর্যাপ্ত ঘুম
পিরিয়ডের ক্লান্তি কাটানোর অন্যতম উপায় হলো পর্যাপ্ত ঘুম। প্রতি রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাবেন। শোওয়ার এক ঘণ্টা আগে মুঠোফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, টিভির মতো সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে দিন। সন্ধ্যার পর চা, কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ও পান করবেন না। কারণ, এতে অনিদ্রার সমস্যা হতে পারে।
আর একটি কথা, পিরিয়ড চলাকালে বেশি দুর্বলতা অনুভব করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। তিনিই আপনাকে সেরা পরামর্শটা দিতে পারবেন। তাছাড়া রোজকার খাদ্যতালিকায় কী রাখা যায়, তা জানতে একজন পুষ্টিবিদের শরণাপন্ন হতে পারেন।