২৫ জুলাই ২০২৪

কিউআর কোড কী? কেন ব্যবহার করা হয় ও কীভাবে কাজ করে?

কিশোর ডাইজেস্ট ডেস্ক
১২ জুন ২০২৪, ২০:২০
কিউআর কোড ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম নকশা করে জাপানের জনপ্রিয় অটোমোবাইল কোম্পানি টয়োটার অধীনস্থ ডেনসো ওয়েব। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন পার্সেল, বই, সফট ড্রিংক্সের বোতল এমনকি  টি-শার্টের উপরে কিউআর কোডের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে এটি দ্বিমাত্রিক বারকোড। এটির মধ্যে লুকানো থাকে বিভিন্ন মেসেজ, নম্বর, সাইটের ইউ-আর-এল ইত্যাদি। এটি ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম নকশা করে জাপানের জনপ্রিয় অটোমোবাইল কোম্পানি টয়োটার অধীনস্থ ডেনসো ওয়েব। কিউআর কোড প্রথমে পুরো জাপান জুড়ে এবং পরবর্তিতে পুরো বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

কিউআর কোডের পূর্ণ রূপ হল ‘কুইক রেসপন্স কোড’। এটি একটি ‘মেশিন রিডএবল’ কোড যা সাদা-কালো ছোট ছোট বর্গক্ষেত্র নিয়ে গঠিত হয়। এটি মূলত বারকোডের মতোই কাজ করে। তবে, এদের ফিচারে কিছু পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, বারকোড কেবল একটি সোজা লাইনেই স্ক্যান করা যায়। অন্যদিকে, একটি স্ক্যানার কিউআর কোডকে (দুই-মাত্রায়) সব দিক থেকে পড়তে পারে। ফলে, কিউআর কোড বারকোডের তুলনায় বেশি ডেটা ধারণ করে।

বর্তমানের ডিজিটাল যুগে কিউআর কোড ও বারকোড বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়ে আসে। একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন জিনিস চালু করতে পারেন, বিভিন্ন তথ্য পেতে পারেন। পাশাপাশি, এটি স্ক্যান করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে, আর প্রয়োজন হয় কেবল একটি স্মার্টফোনের। ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড শেয়ার করা বা কোনো ওয়েবসাইটের শর্টকাট শেয়ার করার জন্যও কিউআর কোড ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া, কিউআর কোডের আরও নানান ধরনের ব্যবহার রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট অ্যান্ড্রয়েড পুলিস।

কিউআর কোড কতটুকু তথ্য ধারণ করতে পারে?
একটি কিউআর কোড সংখ্যাসূচক, আলফানিউমেরিক, বাইট/বাইনারি ডেটা এনকোড করে। এটি ২৯৫৩ বাইট বাইট পর্যন্ত ডেটা ধারণ করতে পারে। তবে, ডেটা সংরক্ষণ করার অন্য যে কোনো অ্যাপ্লিকেশনের মতো এর একটি ‘অপটিমাইজ পয়েন্ট’ রয়েছে, যেখানে কিছু নূন্যতম প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হয়। তা না হলে, স্ক্যানার একটি কোড ঠিকমতো পড়তে পারে না।

এনকোড করা ডেটা কিউআর কোডের আকার নির্ধারণ করে। যত বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, আকার তত বড় হবে। কিউআর কোডে ২৯৫৩ বাইট পর্যন্ত ডেটা, ৪২৯৬টি আলফানিউমেরিক অক্ষর, এবং ৭০৮৯টি অঙ্ক থাকতে পারে।

কিউআর কোডের ব্যবহার কী?
একটি কোডে ইউআরএল লিংক, চার হাজার অক্ষর পর্যন্ত লেখা, ইমেইল, পিডিএফ, ও আরও বিভিন্ন ধরনের তথ্য থাকে। তবে, যতক্ষণ না কেউ কিউআর কোডটি ফোন থেকে স্ক্যান করছেন, ততক্ষণ এসব তথ্য দেখা বা ব্যবহার করা যায় না। বিভিন্ন সময়ে অর্থপ্রদান করতে, ওয়েবসাইটের লিংক পেতে ও অন্যান্য তথ্যের জন্য কিউআর কোডের ব্যবহার হতে পারে অনেক ক্ষেত্রেই।

অর্থপ্রদানের জন্য কিউআর কোড ব্যবহার করার সময়, অর্থপ্রদাণের নির্দিষ্ট অ্যাপ তথ্য এনক্রিপ্ট করে। এটি লেনদেনের পুরোটা সময়ে অর্থপ্রদানের বিবরণ এনক্রিপ্ট করে থাকে, তাই ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার বিষয়ে চিন্তা করতে হয় না। এভাবেই, কিউআর কোড বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজে বাড়তি সুবিধা দেয়।

স্ক্যান করবেন কীভাবে?
এখনকার বেশিরভাগ স্মার্টফোনেই বিল্ট-ইন কিউআর কোড স্ক্যানার থাকে। ফলে, একটি কোড স্ক্যানের জন্য থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করেই কিউআর কোড স্ক্যান করতে পারবেন। তবে, এর জন্য প্রয়োজন হবে অ্যান্ড্রয়েড ৮ এবং আইওএস ১১ এর পরের সংস্করণ।

ফোনের ক্যামেরা অ্যাপে অথবা নোটিফিকেশন প্যানেল থেকে বারকোড বা কিউআর কোড মোড সিলেক্ট করার অপশন থাকে। অপশনটি চালু করে ফোনের ক্যামেরা কিউআর কোডের ওপরে ধরলেই সেটি স্ক্যান হয়ে যাবে।

কিউ আর কোড স্ক্যান করা কী নিরাপদ?
দুর্ভাগ্যবশত, কিউআর কোডে বিভিন্ন তথ্য ধারণ করা থাকে, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে অ্যান্ড্রয়েড পুলিস। বিশ্বাসযোগ্য কোনো উৎস থেকে কোড স্ক্যান না করা হলে, ভাইরাস, স্পাইওয়্যার, এবং ম্যালওয়্যারের মতো জিনিস ডিভাইসে চলে আসতে পারে। আর এর ফলে ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য চুরি যেতে পারে।

এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রথমে নিশ্চিত করুন বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে আসা কিউআর কোডই কেবল স্ক্যান করছেন। নকশা অনুসারে, বেশিরভাগ স্ক্যান করা কোড, ব্যবহারকারী অনুরোধ না করা পর্যন্ত পরবর্তী পৃষ্ঠা চালু করবে না। তাই, স্ক্যান করার পর, যে কোনো ইউআরএল লিংক বা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার আগে সতর্কতার সঙ্গে লিংকটি যাচাই করে নিন। সন্দেহ হলে লিংকে ক্লিক করা এড়িয়ে চলুন।