বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের লড়াই এখন শুধু দুই দলের নয়, দুই প্রজন্মেরও গল্প। দুজনেই পাল্লা দিয়ে গোল করছেন, ভাঙছেন একের পর এক রেকর্ড। কখনো এগিয়ে যাচ্ছেন মেসি, কখনো আবার তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন এমবাপ্পে। ফুটবল ইতিহাসে একসময় যেমন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে মিরোস্লাভ ক্লোসা ও রোনালদো নাজারিওর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গিয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপে ওই স্মৃতিই যেন নতুন করে ফিরিয়ে এনেছেন মেসি ও এমবাপ্পে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এতদিন শীর্ষে ছিলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসা। তাঁর নামের পাশে ছিল ১৬ গোল। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ছিলেন ১৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। তবে চলতি বিশ্বকাপে রেকর্ডের পুরোনো হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছেন মেসি ও এমবাপ্পে।
ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে যান মেসি। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্লোসাকে পেছনে ফেলে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন। তবে রেকর্ড গড়ার পথে তাঁকে তাড়া করে ফিরেছেন এমবাপ্পে।
ডালাসের ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পর ফিলাডেলফিয়ায় ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ফরাসি তারকা। দুই গোলেই বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬। ফলে ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন এমবাপ্পে। রোনালদো নাজারিও নেমে যান তৃতীয় স্থানে।

মজার বিষয় হলো, মেসি সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার আগে এক পর্যায়ে এমবাপ্পেই তাঁকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। নিউইয়র্কে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে যান, তখন মেসির ছিল ১৩। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কানসাস সিটিতে হ্যাটট্রিক করে মেসি এক লাফে পৌঁছে যান ১৬ গোলে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও মেসি থেমে থাকেননি। পরে দুটি দুর্দান্ত গোল করে রেকর্ডটি নিজের করে নেন। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও প্রমাণ করেন, বড় ম্যাচের বড় খেলোয়াড় তিনি।
তবে গোলযুদ্ধের গল্প এখানেই শেষ নয়। কারণ মেসির বয়স এখন ৩৯ ছুঁইছুঁই, আর তিনি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে এমবাপ্পের বয়স মাত্র ২৭। চোট বা অপ্রত্যাশিত কোনো বাধা না এলে তাঁর সামনে আরও অন্তত দুটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে।
যার ফলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড দীর্ঘমেয়াদে এমবাপ্পের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমান ব্যবধান মাত্র দুই গোল। ফরাসি ফরোয়ার্ড যদি নিজের ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তাহলে শুধু মেসিকেই নয়, বিশ্বকাপের গোলের রেকর্ডকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
এখন ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করছেন এক ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। এক পাশে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা শিল্পী মেসি, অন্য পাশে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে বিস্ফোরক গোলমেশিন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন নিয়ে এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।