বিশ্বকাপ সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই স্পেনের বিস্ময়বালককে ঘিরে ফুটবলবিশ্বের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। কোটি কোটি সমর্থক অপেক্ষা করছিলেন বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর প্রথম গোল দেখার জন্য। প্রথম ম্যাচে অপেক্ষার অবসান হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলার প্রথম ১০ মিনিটেই গোলের দেখা পান টিনএজ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
ইয়ামালের গোলের সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীরা তাঁকে নিয়ে মেতে উঠেছে, ঘুরে-ফিরে আলোচনায় এসেছে তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যাপন। গোল করার পর মাঠেই সেজদা দিয়ে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এরপর দুই হাত বুকের সামনে এনে আঙুল দিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা তৈরি করেন—‘৩০৪’।
অনেক দর্শকই এটিকে নিছক একটি অভিনব উদ্যাপন বলে মনে করেন। তবে বাস্তবে এটার পেছনে রয়েছে আবেগ, স্মৃতি এবং নিজের শেকড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
মরোক্কান বাবা ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মায়ের সন্তান ইয়ামালের জন্ম স্পেনে। তাঁর বেড়ে ওঠা বার্সেলোনার কাছের শহর মাতারোর শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দে। আফ্রিকান অভিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকাতেই কেটেছে তাঁর শৈশব। সেখানকার সাধারণ পরিবেশ, সংগ্রামী জীবন আর ছোট্ট একটি কংক্রিটের মাঠ থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর ফুটবলযাত্রা।
এখন তিনি বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম বড় তারকা। বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা। তবে খ্যাতির শীর্ষে উঠেও ভুলে যাননি নিজের শেকড়। এ কারণেই তাঁর উদযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘৩০৪’।
আসলে মাতারোর রোকাফোন্দ এলাকার পোস্টাল কোড হলো ০৮৩০৪। পোস্টাল কোডের শেষ তিন সংখ্যা ‘৩০৪’কেই নিজের পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন ইয়ামাল। গোল করার পর তিনি যেন পুরো বিশ্বকে মনে করিয়ে দেন—‘আমি এখান থেকেই উঠে এসেছি।’
শুধু উদযাপনেই নয়, তাঁর বুট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, এমনকি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিংয়েও ‘৩০৪’ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ উদযাপন তৈরিতে তাঁর বাবারও ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলা থেকে নিজের শেকড়কে কখনো ভুলে না যাওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন তিনি পরিবারের কাছ থেকেই।
বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার পরও ইয়ামাল মাতারো এবং রোকাফোন্দের মানুষের কথা স্মরণ করেছেন। তিনি যেন বলতে চেয়েছেন, তাঁর সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে একটি কমিউনিটির অবদানও।
বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম গোলের আনন্দ শুধু সাধারণ গল্প নয়। এটি এক তরুণ তারকার নিজের শেকড়, নিজের মানুষ এবং নিজের পরিচয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার গল্পও। এ গল্পের নাম—‘৩০৪’।