দীর্ঘ ১৪০৪ দিন পর বাংলাদেশের ওয়ানডে একাদশে ফিরলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রায় চার বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন এই অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাট ও বল হাতে অনবদ্য পারফরম্যান্স করে প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।
জাতীয় দলে নিজের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেও বারবার উপেক্ষিত হয়েছেন। তবে সুযোগ পাওয়ার পর সেই সব আলোচনা ও সমালোচনার জবাব দিলেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ইনিংসের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন মোসাদ্দেক। দলের ব্যাটিং লাইনআপ যখন চাপে, তখন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংস গড়ে তোলেন তিনি। পরে শেষ দিকে খেলেন ঝড়ো ও কার্যকর এক ইনিংস। ৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে এনে দেন লড়াকু সংগ্রহ।
বিশেষ করে শেষের ওভারগুলোতে একজন ফিনিশারের যে ভূমিকা পালন করার কথা, মোসাদ্দেক ঠিক সেটিই করেছেন। শুধু নিজের রান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে লেজের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর পরিণত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ পায় বাড়তি শক্তি।
ব্যাটের পর বল হাতেও ছিলেন সমান কার্যকর। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে তুলে নেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। প্রতিপক্ষের জুটি ভাঙার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিয়ে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
মোসাদ্দেকের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কম আলোচনা হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেললেও জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য খুলছিল না। সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন, মেহেদী হাসান মিরাজের মতো একই ধরনের অলরাউন্ডার হওয়ায় মোসাদ্দেকের সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সে মন্তব্য নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে বেশ আলোচনা হয়। তবে হতাশ না হয়ে নিজের কাজটাই করে গেছেন মোসাদ্দেক। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের নজর কাড়েন তিনি। অবশেষে সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে আবারও জাতীয় দলে সুযোগ পান।
বাংলাদেশের হয়ে সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০২২ সালে। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। কিন্তু চার বছরের সেই বিরতির কোনো প্রভাব তাঁর খেলায় দেখা যায়নি। বরং মনে হয়েছে, সুযোগটির জন্য তিনি প্রস্তুতই ছিলেন। তাই সুযোগ পেয়েই দুই হাতে তা লুফে নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর এই পারফরম্যান্স শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়; এটি জাতীয় দলে নিজের অবস্থান পুনর্গঠনেরও শক্ত বার্তা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, উপেক্ষা এবং সমালোচনার পর মোসাদ্দেক যেন দেখিয়ে দিলেন—সুযোগ পেলে তিনি এখনও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচজয়ী ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারেন।