জাতীয় দলের পেসার হাসান মাহমুদ ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি ক্লাব কেন্টে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে হাসানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কেন্ট।
ক্লাবটির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়ে হাসান বলেন, ‘কেন্টের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত।’
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলবেন ডানহাতি পেসার হাসান। ১২ থেকে ১৫ জুন ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই তাঁর কাউন্টি অভিষেক হতে পারে। এরপর ১৯ থেকে ২২ জুন ক্যান্টারবেরির বিপক্ষে আরও একটি ম্যাচ খেলবেন তিনি।
প্রথম দুই ম্যাচ শেষে দেশে ফিরবেন হাসান। পরে সেপ্টেম্বরে কাউন্টি মৌসুমের শেষ চারটি ম্যাচ খেলতে আবারও ইংল্যান্ডে যাবেন। নতুন এই চ্যালেঞ্জকে স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি। হাসান বলেন, ‘আমি কঠোর পরিশ্রম করতে এবং দলের সাফল্যে অবদান রাখতে বদ্ধপরিকর। কেন্টের প্রধান কোচ অ্যাডাম হোলিওক ও ডিরেক্টর অব ক্রিকেট সাইমন কুকের সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলের প্রত্যাশা সম্পর্কে আমি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। এখন মাঠে নামার অপেক্ষায় আছি।’
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এর আগে শুধু সাকিব আল হাসান কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন। তিনি উস্টারশায়ার ও সারের হয়ে দুই দফায় মাঠে নেমেছিলেন। ফলে হাসানের এই সুযোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাসানকে দলে ভেড়ানো নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কেন্টের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট সাইমন কুকও। তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে হাসান আমাদের দলে যোগ দিচ্ছে। তাঁর মতো আন্তর্জাতিক মানের একজন পেসার মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে। তাঁর অন্তর্ভুক্তি স্কোয়াডের গভীরতা ও সামর্থ্য বাড়াবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিক উন্নতি করেছেন হাসান মাহমুদ। গতি, সুইং এবং নতুন বলে কার্যকর বোলিংয়ের কারণে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের প্রতিযোগিতাপূর্ণ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কাউন্টি দল চারজন বিদেশি ক্রিকেটার নিবন্ধন করতে পারে। তবে একাদশে একসঙ্গে খেলতে পারেন সর্বোচ্চ দুজন বিদেশি ক্রিকেটার। সেই কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেই কেন্টের আস্থা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার।