১৩ মে ২০২৬

পাকিস্তানের বিপক্ষে কেন এত ভয়ংকর নাহিদ রানা?

কৌশিক মজুমদার অর্ণব
১২ মে ২০২৬, ২০:৩৯
নাহিদ রানা সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামলেই যেন অন্য এক নাহিদ রানাকে দেখা যায়। আগুনঝরা গতি, ভয়ংকর বাউন্সার আর আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের বারবার বিপাকে ফেলছেন বাংলাদেশের এই তরুণ পেসার। পরিসংখ্যানও বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো দলের তুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষেই সবচেয়ে সফল নাহিদ।

মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১০৪ রানের ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। সেখানে ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন নাহিদ। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট এবং এখন পর্যন্ত সেরা বোলিং।

পাকিস্তানের বিপক্ষে নাহিদের আধিপত্য শুধু টেস্টেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৬ সালের মার্চে মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজেও তিনি ছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। এক ম্যাচে প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যেই তুলে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তাঁর আগুনঝরা স্পেলে পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল মাত্র ১১৪ রানে। সেই ম্যাচে নিয়মিতই ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করেছেন নাহিদ। শর্ট বল ও বাউন্সারে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা।

ম্যাচের পর পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন বলেছিলেন, ‌নাহিদ রানাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছে। তাঁর মতে, নাহিদ আক্রমণে আসার পর থেকেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে পাকিস্তান।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে নাহিদের ১৫২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি পেসারের করা এটিই দ্রুততম বল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি পেস বোলিং নিয়ে যে সীমাবদ্ধতার কথা বলা হতো, নাহিদ যেন সেটির জবাব দিচ্ছেন নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই।

টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে নাহিদের উইকেট ২৭টি। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষেই ৩ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট। তাঁর সামগ্রিক বোলিং গড় ৪১.৬৬ হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে তা নেমে এসেছে ৩১.৭৫-এ। টেস্টে পাওয়া দুইটি পাঁচ উইকেটের একটি এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষেই।

ওয়ানডেতে চিত্রটা আরও দারুণ। ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট নেওয়া নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ২৪ রানে ৫ উইকেট, সেটিও পাকিস্তানের বিপক্ষে। এই দলের বিপক্ষে তাঁর বোলিং গড় মাত্র ১৮.১২।

শুধু জাতীয় দল নয়, পাকিস্তানের মাটিতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন নাহিদ। ২০২৬ সালের পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলতে গিয়ে গতির ঝড়ে কাঁপিয়েছেন বিশ্বের নামী ব্যাটারদের। এক ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। পুরো আসরে ৫ ম্যাচে তাঁর শিকার ছিল ৯ উইকেট।

নাহিদের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক-বর্তমান অনেক ক্রিকেটারও। মিরপুর টেস্টের আগে পাকিস্তানের ব্যাটার ইমাম-উল-হক বলেছিলেন, নাহিদকে নিয়ে দলের বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মাঠে সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি।

পিএসএলের সময় কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামও নাহিদের গতি ও বোলিং বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেছিলেন। আর পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন আফ্রিদি বলেছিলেন, নাহিদ রানা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।

১৪৫ থেকে ১৫২ কিলোমিটার গতিতে নিয়মিত বল করার পাশাপাশি শর্ট বল ব্যবহারে ইতোমধ্যেই আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন নাহিদ। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে এক্সপ্রেস পেসারের গুরুত্ব বাড়ছে, সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন স্বপ্নের নাম হয়ে উঠছেন এই তরুণ পেসার। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে নামলেই যেন সেই স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।