১৫ জুন ২০২৪

গালি দেওয়া জঘন্য পাপ

নাঈমুল হাসান তানযীম
০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:০০
গালি হচ্ছে জঘন্য পাপ এবং নিন্দনীয় কাজ। অলংকরণ : কিশোর ডাইজেস্ট

গালি দেওয়া একটি নিকৃষ্ট অভ্যাস। এটা কোনও সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। যারা কথায় কথায় মানুষকে গালাগাল করে বেড়ায়, তাদের ব্যাপারে কঠোর হুমকি এসেছে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (আল আহ্‌যাব: ৫৮)

একজন মুসলমান আরেক মুসলমানকে গালি দেওয়া কেমন গুনাহ সে সম্পর্কে রাসুল (সা.) হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরি। (বুখারি : ৪৮)

অন্যকে গালি দেওয়া মানে নিজেই নিজেকে গালি দেওয়া। আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘একজন অপরজনকে ফাসিক বলে যেন গালি না দেয় এবং কাফির বলে যেন অপবাদ না দেয়। কেননা, যদি সে বাস্তবেই তা না হয়ে থাকে, তবে তা তার উপরই পতিত হবে।’ (বুখারি : ৬০৪৫)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ নিজের পিতা-মাতাকে লা’নত করা। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপন পিতা-মাতাকে কেউ লা’নত করতে পারে? তিনি বললেন, সে অন্য কোনও লোকের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে নিজের পিতাকেই গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, ফলে সে তার মাকেই গালি দেয়। (বুখারি : ৫৯৭৩)

সর্বোপরি গালি হচ্ছে জঘন্য পাপ এবং নিন্দনীয় কাজ। তা রাগের বশে হোক কিংবা মজার ছলে। বর্তমানে এটা সামাজিক ভাইরাসে রূপ নিয়েছে। আমাদের উচিত তা পরিহার করে ভালো কিছুর প্রচার করা। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গুনাহের কাজ করবে। অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮০)

লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।