১৫ জুন ২০২৪

যেমন ছিল ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি

কিশোর ডাইজেস্ট ডেস্ক
২০ মে ২০২৪, ১৭:১৯
ইব্রাহিম রাইসি ও আব্দোল্লাহিয়ানকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি বেল-২১২ মডেলের ছিল। ছবি: সংগৃহীত

আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি প্রকল্প উদ্বোধন করে ফিরছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও তার সফরসঙ্গীরা; দুর্গম পার্বত্যাঞ্চলে ঘন কুয়াশার মধ্যে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ গেছে সবার। দুর্ঘটনার সম্ভাব্য সব কারণ অনুসন্ধান করছে উদ্ধারকারী ও অনুসন্ধান দল। তবে প্রাথমিকভাবে বিরূপ আবহাওয়াকেই কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইব্রাহিম রাইসি ও আব্দোল্লাহিয়ানকে নিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি বেল-২১২ মডেলের ছিল। ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার বেশ আগেই এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা হয়েছিল। মাঝারি আকারের হেলিকপ্টারটি পাইলটসহ মোট ১৫ জন বসতে পারতেন।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির খবরেও বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু এটি পুরোনো মডেলের ছিল। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের কাছে এমন কোনো হেলিকপ্টার বিক্রি করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেইটনের বরাত দিয়ে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইব্রাহিম রাইসিকে নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারটি ছিল ষাটের দশকের। লেইটন জানিয়েছেন, বেল-২১২ মডেলের হেলিকপ্টার ১৯৭৬ সালে ইরানে শাহ বংশের শাসন আমলের শেষের দিকে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী এটিকে ১৯৬০ এর দশকের শেষ থেকেই ব্যবহার করে আসছিল।

হেলিকপ্টারটির খুচরা যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করছেন সামরিক বিশ্লেষক লেইটন। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়াকেও তিনি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

জানা গেছে, ‘বেল ২১২’ মডেল ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা ‘ইউএইচ-১এন’ হেলিকপ্টারের বেসামরিক সংস্করণ এটি। মূল মডেলের একটি ইঞ্জিনের বদলে দুটি ইঞ্জিনে যুক্ত করার পর একে ‘টুইন হিউই’ বলা হয়ে থাকে। বিশ্ববব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি অপারেটররা ব্যাপকভাবে এ ধরনের হেলিকপ্টার ব্যবহার করে।

অ্যারোস্পেস কোম্পানি বেল টেক্সট্রন বেল হেলিকপ্টার তৈরি করে ১৯৬০ এর দশকে। সেসময় ‘ইউএইচ-১ ইরোকোয়া’ মডেলের বদলে উন্নততর বাহন হিসেবে কানাডার সামরিক বাহিনীর জন্য তৈরি করা হয় বেল হেলিকপ্টার। একটি ইঞ্জিনের বদলে যুক্ত করা হয় দুটি ‘টার্বোশ্যাফট’ ইঞ্জিন। ফলে হেলিকপ্টারের শক্তি ও ভেতরের ধারণক্ষমতা বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশিক্ষণের নথিপত্র অনুসারে, ১৯৭১ সালে বেল হেলিকপ্টার বাজারে এলে দ্রুতই তা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বহরে যুক্ত হয়। নানা কাজে ব্যবহৃত বেল ২১২ মডেলের হেলিকপ্টারটি সকল অবস্থায় চলতে পারে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম পরিবহনের কাজেও লাগানো হয়। ইরানি প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বেল ২১২ মডেলের যে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি সরকারি কর্মকর্তাদের বহনের জন্যই তৈরি করা।

এখন বেলের সবশেষ ‘সুবারু বেল ৪১২’ মডেলের হেলিকপ্টার তৈরি হয়েছে। এটি মূলত পুলিশ, চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ, সৈন্য পরিবহন, জ্বালানি শিল্প ও অগ্নিনির্বাপণ কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই মডেলটি ক্রুসহ ১৫ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারে।

কারা চালায়
বেল ২১২ মডেলটি এখন বিভিন্ন বেসামিরক সংস্থা ব্যবহার করছে। জাপানের কোস্ট গার্ড, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, ফায়ার বিভাগ ও থাইল্যান্ড পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা এটি ব্যবহার করে। ইরান সরকারের কাছে এ ধরনের হেলিকপ্টার কতগুলো আছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে ফ্লাইট গ্লোবালের ২০২৪ সালের হিসেবে, দেশটির বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর কাছে এ মডেলের ১০টি হেলিকপ্টার রয়েছে।

অতীত অভিজ্ঞতা কেমন
ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে সবশেষ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে একটি বেল ২১২ সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে দুর্ঘটনায় পড়ে। ইরানে এর আগে এ মডেলের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়ে ২০১৮ সালে। সেসময় চারজনের মৃত্যু হয়।