১৫ জুন ২০২৪

হেভি ব্লিডিং কী, হলে যা করবেন

কিশোর ডাইজেস্ট ডেস্ক
১৩ মে ২০২৪, ১৯:১১
অতিরিক্ত রক্তপাত থেকে অ্যানিমিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছবি : ফ্রিপিক

হেভি ব্লিডিং বলতে ঠিক কী বোঝায়, তার নির্দিষ্ট কোনও সংজ্ঞা নেই। প্রত্যেক নারীর ঋতুকালীন রক্তপাতের পরিমাণ আলাদা হয়। একটি ঋতুচক্র সাধারণত পাঁচ দিন স্থায়ী হওয়ার কথা। যদি দেখেন যে প্রতিবার প্রায় সাত দিন স্থায়ী হচ্ছে, তাহলে আপনার ঋতুকাল নিয়ে ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে।

যদি একবার পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার কয়েক দিন পরই আবার শুরু হয়ে যায়, প্রতি ঘণ্টায় প্যাড পাল্টাতে হয়, রক্তের দলা বের হয়, তা হলে বুঝে নিন যে আপনার অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা রয়েছে। এই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয় না, নিশ্চয়ই আপনার কোনও শারীরিক সমস্যা এর জন্য দায়ী। তাই একের বেশি সাইকেলে এ ধরনের সমস্যা হলেই চিকিৎসকের শরণ নেওয়ার কথা ভাবতে হবে।

ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্যই ইউটেরাসের ভিতরের লাইনিং বা এন্ডোমেট্রিয়াম গঠন করে। মাসিক ঋতুচক্রের সময়ে এই এন্ডোমেট্রিয়ামটাই নির্গত হয় শরীর থেকে। তা কিছুদিনের মধ্যে ফের গড়ে ওঠে। হরমোনের স্তরে কোনও গোলমাল হলে এন্ডোমেট্রিয়ামও মোটা হয়ে যায়, ফলে রক্তপাতও বেশি হয়। যদি ওভারিতে কোনও সমস্যা থাকে, ইউটেরাসে ফাইব্রয়েড বা পলিপ তৈরি হয়, তাহলে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।

অনেক সময় নন-হরমোনাল ইন্ট্রা ইউটেরাইন ডিভাইস শরীরে প্রবেশ করালে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও হেভি ব্লিডিং হতে পারে। আর প্রেগন্যান্সির মধ্যে রক্তপাত হলে বুঝতে হবে যে কোথাও কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেই তেমনটা হচ্ছে।

অতিরিক্ত রক্তপাত থেকে কিন্তু অ্যানিমিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডাক্তার দেখানো বা তাঁর পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান। খুব বেশি রক্তক্ষয় হলে ক্লান্তিবোধ থাকবে, নিয়মিত কাজকর্ম করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে বিশ্রাম নিন, জোর করে কাজ করতে যাবেন না। ব্যায়াম করাও বন্ধ রাখুন কয়েক দিন।

খুব বেশি রক্তপাত হলে কিন্তু আপনার কোষগুলো যথেষ্ট অক্সিজেন পাবে না, সেক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে একেবারেই দেরি করবেন না।