এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্রের মান ও কঠিনতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কোনো বোর্ড তুলনামূলক সহজ প্রশ্ন করে, আবার কোনো বোর্ডে প্রশ্ন কিছুটা কঠিন হয়। এ ধরনের বৈষম্য দূর করতেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে এবার আমরা একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। একই দেশের শিক্ষার্থীরা একই পরীক্ষা দেবে, কিন্তু প্রশ্নপত্র ভিন্ন হবে—এটা যৌক্তিক নয়। তাই আমরা সবার জন্য একই প্রশ্নপত্র চালু করছি।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরীক্ষাতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এক দেশ থেকে আরেক দেশে ‘ও’ লেভেল বা ‘এ’ লেভেলের প্রশ্নপত্র আলাদা হয় না। আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও সমতাভিত্তিক করতে এই উদ্যোগ নিয়েছি।
আগামী ২ জুলাই শুরু হবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকায় সাংবাদিকরা জানতে চান, কোনো বোর্ড এলাকায় দুর্যোগ দেখা দিলে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতির সঙ্গে প্রশ্নপত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইতোমধ্যে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠিয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের কারণে কোনো এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণে সমস্যা হলে সে ক্ষেত্রে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশা, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর ফলে দেশের সব বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যায়ন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, সমতাভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য হবে।