১৬ জুন ২০২৪

ফোর্বসের অনূর্ধ্ব-৩০ সফল এশীয় উদ্যোক্তার তালিকায় ৯ বাংলাদেশি

কিশোর ডাইজেস্ট ডেস্ক
১৬ মে ২০২৪, ১৮:১৬
ফোর্বসের অনূর্ধ্ব-৩০ সফল এশীয় উদ্যোক্তার তালিকায় ৯ বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবছর সারা বিশ্বের সফল ও গুণী মানুষদের তালিকা প্রকাশ করে বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। এবার এশিয়ার ৩০ বছরের কম বয়সী উদ্যোক্তা ও সমাজ পরিবর্তনকারীর (চেঞ্জমেকার) ২০২৪ সালের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ‘থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়া’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন নয়জন বাংলাদেশি। বুধবার (১৫ মে) টানা নবম বছরের মতো মর্যাদাপূর্ণ ‘থার্টি আন্ডার থার্টি এশিয়া’ তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ম্যাগাজিন। তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের ৯জন তরুণ হলেন আনুশা আলমগীর, রেদওয়ান আহমেদ, মেহেদী শরণ, আহমেদ ফাহাদ, আব্দুল গাফফার সাদী, মো: তুষার, মো: শহিদুল ইসলাম, সুলতান মনি এবং মুমতাহিনা আনিকা।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে অবদান রাখায় ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ জন ব্যতিক্রমী তরুণকে তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে। শিল্পকলা, প্রযুক্তি, যোগাযোগমাধ্যম, ফিন্যান্সসহ বিভিন্ন বিভাগে তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিরা তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উদ্ভাবন ক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন।

বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী আনুশা আলমগীর ২০২৩ সালের ভেনিস বিয়েনাল-এর ১৮ তম আন্তর্জাতিক স্থাপত্য প্রদর্শনীতে তার চলচ্চিত্র ‘পর্দা’ দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। চলচ্চিত্রটি মুসলিম পর্দা চর্চা ও নারীদেহের চিত্রায়ণ করা নিয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন সমস্যাকে ফুটিয়ে তুলেছে। তিনি লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব আর্ট থেকে স্থাপত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রেদওয়ান আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শক্তিশালী প্রতিবেদন ও বাংলাদেশি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ভোগান্তি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য ২২তম ‘হিউম্যান রাইটস প্রেস অ্যাওয়ার্ড’ জেতার পাশাপাশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রেদওয়ান স্থানীয় সাংবাদিকদের সমর্থন করার জন্য ‘বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া’ সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে তাকে রেহাম আল-ফাররা মেমোরিয়াল জার্নালিজম অনুষ্ঠানে একজন ফেলো মনোনীত করা হয়েছিল।

মেহেদী শরণ বাংলাদেশের ‘উবার ফর মেইড সার্ভিস’ হ্যালোটাস্ক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। অ্যাপটি প্রতি ঘণ্টায় বুকিং, মাসিক সাবস্ক্রিপশন সহ গৃহকর্মী নিয়োগের জন্য তাদের যাচাইকরণ এবং সহিংসতা থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য সুরক্ষামূলক সেবা প্রদান করে। হ্যালোটাস্ক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও অক্সফাম থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছে। কোম্পানিটি ২০২৫ সালের মধ্যে গৃহকর্মীর সংখ্যা ১ লাখে সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পা রাখার চেষ্টা করছে।

উইন্ড.অ্যাপ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ ফাহাদ একটি ক্রস-বর্ডার রেমিট্যান্স প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যেটি দ্রুত ও আরো সাশ্রয়ী মূল্যে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও স্টেবলকয়েনের লেনদেন করে। ফাহাদ পাঠাও-এর প্রতিষ্ঠাতা দলেরও অংশ ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ও নেপালে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পরিষেবার নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন স্ব-শিক্ষিত কোডার ফাহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

ঢাকা ভিত্তিক দ্রুত লোন-এর প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল গাফফার সাদী, মো: তুষার ও মো: শহিদুল ইসলাম ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসাকে ব্যাংক এবং অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো থেকে ঋণ সুরক্ষিত করতে সহায়তা প্রদান করে। ২০১৯ সাল থেকে তারা ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ সুবিধা প্রদান করেছেন।

সুলতান মনি এবং মুমতাহিনা আনিকা ঢাকা-ভিত্তিক ফিনটেক স্টার্ট-আপ যাতিক প্রতিষ্ঠা করেছেন যেটির লক্ষ্য ক্ষুদ্র কোম্পানিগুলোকে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমাধান প্রদানের মাধ্যমে হিসেব রক্ষায় সাহায্য করা। যাতিক সম্প্রতি একটি ১.৬ মিলিয়ন ডলারের প্রাক-তহবিল পেয়েছে এর কার্যক্রমকে আরো সুদূরপ্রসারী করার জন্য।