সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপের সময় লামিনে ইয়ামালের দিন কেটেছে স্কুলের ক্লাসরুমে। সহপাঠীদের মতো তিনিও টেলিভিশনের পর্দায় বিশ্বকাপ দেখেছেন, প্রিয় খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা করেছেন। মাত্র চার বছর পর দৃশ্যপট পুরো বদলে গেছে। এখন তিনিই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলারদের একজন।
২০২৬ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের দেখা পেয়েছেন স্পেনের কিশোর তারকা ইয়ামাল। গোল করার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর ৩৪৩ দিন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা ফুটবলারদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে প্রথম গোলের অনুভূতি নিয়ে ইয়ামাল নিজেই বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই গোল করা স্বপ্নের মতো। ভাবা যায়, আগের বিশ্বকাপটি আমি ক্লাসে বসে দেখেছি!’

সত্যিই, যে বয়সে বেশির ভাগ কিশোর বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে গল্প করে, সেই বয়সেই ইয়ামালকে নিয়ে লেখা হচ্ছে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে। তাঁর প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি দৌড় আর প্রতিটি আক্রমণ এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বিষয়।
সৌদি আরবের বিপক্ষে তাঁর গোলটিও ছিল দারুণ। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মিকেল ওইয়ারসাবালের বাড়ানো বলের দিকে বাজপাখির মতো ছুটে গিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপান ইয়ামাল। ম্যাচজুড়েই তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং বল নিয়ন্ত্রণ সৌদি রক্ষণকে বিপাকে ফেলে। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলার দক্ষতা এবং বড় মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের কারণেই তিনি স্পেনের ‘বিস্ময়বালক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেন গোলশূন্য ড্র করেছিল। সেদিন ইয়ামাল নেমেছিলেন বদলি হিসেবে। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই দেখিয়ে দিয়েছেন কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা। তাঁর গোলের পর স্পেনের খেলায় নতুন গতি আসে এবং শেষ পর্যন্ত আরও তিনটি গোল করে বড় জয় তুলে নেয় দলটি।
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইয়ামাল হয়ে উঠেছেন স্পেনের অনুপ্রেরণার প্রতীক। বিশ্বকাপে এখনও অনেক পথ বাকি তাঁর। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ফুটবল বিশ্ব নতুন এক তারকার উত্থান দেখছে। এ তারকার নাম লামিনে ইয়ামাল।